সরকার নিজেই ফেইসবুক পোস্ট মুছতে পারবে

সরকার নিজেই ফেইসবুক পোস্ট মুছতে পারবে।

ব্যক্তি পর্যায়ে কারও আইডি ও পেইজের স্ট্যাটাস বা পোস্ট মুছে ফেলতে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষের অপেক্ষায় আর থাকছে না সরকার।

গুজব, নাশকতায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রোপাগান্ডা, পর্নোগ্রাফি, ভুয়া পেইজ, রাজনৈতিক ও দেশ বিরোধী অপপ্রচার, প্রশ্ন ফাঁসের মতো ইস্যুতে ফেইসবুক ব্যবহারের ক্ষতি হতে নাগরিক সুরক্ষায় প্রযুক্তিগত এই সক্ষমতা অর্জনের পথে সরকার।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের যে উদ্যোগ তার  দ্বিতীয় ফেইজে ইন্ডিভিজ্যুয়াল স্ট্যাটাস হতে শুরু করে সবকিছু যেন মনিটর করা যায় সেই ব্যবস্থার মধ্যে আসা হয়েছে।

‘স্ট্যাটাস বন্ধ করতে ফেইসবুকের কাছে যেতে হবে না। যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে বসানো হচ্ছে। সেপ্টেম্বরে ট্রায়ালে যেতো পারবো। এরপর পুরো দমে’ জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, কেউ একটি স্ট্যাটাসে একটা গুজব রটিয়ে দিলো, সেটি ১০ হাজার কপি হয়ে গেলো । এখন সব খুঁজে বের করা তো কঠিন। কিন্তু আমরা এ বিষয়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নিচ্ছি। এআই ব্যবহার করছি, বিষয় ধরে সব খুঁজে বের করে দেবে।

‘পুরো উদ্যোগে দুটি ফেইজ আছে। আমাদের যন্ত্রপাতি লাগবে, আইজিডিব্লিউগুলোসহ কয়েক জায়গায় যন্তপাতি বসাতে হবে। প্রথম ফেইজে আমরা ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করতে পেরেছি। এই যন্ত্রপাতি বসানো হয়ে গেছে। এটাকে আরও শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হয়েছে। কেউ যদি এমন কিছু করতে চায় তাহলে বিটিআরসিকে জানাতে হবে, এতে বোঝা যাবে যে, কেউ নতুন ইন্সটলেশন করেছে কিনা’ বলেছিলেন এই প্রযুক্তিবিদ।

মন্ত্রী জানান, ডটকম সাইটগুলোকে তাৎক্ষণিক বন্ধ করে দেয়ার ক্ষমতা আমাদের তৈরি হয়েছে। এই যে ২৪ হাজার পর্ন সাইট বন্ধ করা, এটা যদি একটি একটি করতে হতো তাহলে তো অনেক অনেক সময় লাগতো এবং তা মুশকিলের কাজ হতো। যে সক্ষমতা তৈরি হয়েছে তাতে এগুলো আমরা দ্রুতই বন্ধ করে ফেলতে পেরেছি।

‘বাড়ি বাড়ি ইন্টারনেট দেবো আর সেই ইন্টারনেট যদি নিরাপদ না হয় তাহলে সেটা তো আরেক অপরাধ। সেটা তো করতে পারি না’ উল্লেখ করেন তিনি।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ফেইসবুক যে কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড বলে সেটা আমার চিন্তা নয়, আমাদের চিন্তা আমাদের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড নিয়ে। সেটাকে ফেইসবুকের গুরুত্ব দিতে হবে।

‘আমরা সবচেয়ে নমনীয়, আমরা ফেইসবুককে বন্ধ না করে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি। বিশ্বের অনেকেই এখন বন্ধ করছে, জরিমানা করছে। সত্যি বলতে কী, আমাদের কাছে এদের শেখার আছে’ বলছিলেন মন্ত্রী।

নাগরিক নিরাপত্তা ও নিরাপদ সোশ্যাল মিডিয়া নিশ্চিতের মতো এসব ইস্যুতে সরকার এই সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টটির দ্রুত রেন্সপন্স চেয়েছে সবসময়। কিন্তু এখানে নিজেদের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড এর বিষয়টি সামনে এসেছে ফেইসবুক।

এরমধ্যে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি স্পেনের বার্সেলোনায় মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে ফেইসবুক প্রতিনিধিদের সঙ্গে মোস্তাফা জব্বারের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে মোস্তাফা জব্বার ফেইসবুক প্রতিনিধিদের হাতে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট ধরিয়ে দেন।

তিনি সেখানে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশে আইন মোতাবেক ফেইসবুককে কনটেন্ট এবং অন্যান্য বিষয়গুলো এক্সিকিউট করতে বলেন। ফেইসবুকে ব্যবহার প্রেক্ষাপটে নাগরিক সুরক্ষার বিষয়টি সবার আগে গুরুত্ব দেয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী ও বিটিআরসিকে সঙ্গে নিয়ে কো-অর্ডিনেট করে সোশ্যাল মিডিয়া নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক রাখতে সফল হয়েছিলেন তিনি। তখন সেনাবাহিনীর নামে ৭৬০টি ভুয়া ফেইসববুক আইডি-পেইজ চিহ্নিত করে তা  মাত্র দেড় ঘন্টায় ক্লোজ করে দিয়েছিলেন।

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here