ফ্রি ওয়াই-ফাই জোন হচ্ছে সিলেট নগরীর ৬২ এলাকায়

ফ্রি ওয়াই-ফাই জোন হচ্ছে সিলেট নগরীর ৬২ এলাকায়।

বিনা মূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা দিতে সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ ৬২টি এলাকায় ফ্রি ওয়াই-ফাই জোন তৈরি করছে সরকার। ‘ডিজিটাল সিলেট সিটি প্রকল্প’-এর আওতায় নগরের ১৬২টি ওয়াই-ফাই অ্যাকসেস পয়েন্টে (এপি) বিনা মূল্যে ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সুবিধা থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এরই মধ্যে প্রকল্পের কার্যাদেশ হয়ে গেছে। চলতি মাসেই কাজ শুরু হবে। নভেম্বর থেকে নগরবাসী এ সুবিধা ভোগ করতে পারবে। সিলেটে আসা দেশী-বিদেশী পর্যটকরাও বিনা মূল্যে এ সুবিধা পাবেন।
প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে ৬২টি ওয়াই-ফাই জোন করা হচ্ছে জানিয়ে প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ উদ্যোগ সফল হলে পর্যায়ক্রমে পুরো নগরীকে ফ্রি ওয়াই-ফাই জোনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
ডিজিটাল সিলেট সিটি প্রকল্পের উপপরিচালক মধুসূদন সাহা বলেন, সিলেট নগরীর ৬২টি এলাকা ও কক্সবাজারের ৩৫টি এলাকায় বিনা মূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা চালুতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি টাকা। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর এক বছর এসব ওয়াই-ফাই জোন দেখভাল করবে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। পরে সিটি করপোরেশন তদারক করবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিলেট নগরীর চৌকিদেখি, আম্বরখানা, দরগা গেট, চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার ফুটওভার ব্রিজ এলাকা, হাসান মার্কেট এলাকা, সুরমা ভ্যালি রেস্ট হাউজ এলাকা, সার্কিট হাউজ জালালাবাদ পার্ক এলাকা, কিন ব্রিজের দুই প্রান্ত, রেলওয়ে স্টেশন, বাস টার্মিনাল, কদমতলী পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা, হুমায়ুন রশীদ চত্বর, আলমপুর পাসপোর্ট অফিস এলাকা, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় এলাকা, সিলেট শিক্ষা বোর্ড, উপশহর রোজভিউ পয়েন্ট, শাহজালাল উপশহর ই-ব্লক ও বি-ব্লক, টিলাগড় পয়েন্ট, এমসি কলেজ এলাকা, দক্ষিণ বালুচর, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, শাহী ঈদগাহ এলাকা, কুমারপাড়া জামে মসজিদ এলাকা ও কুমারপাড়া সড়কে অ্যাকসেস পয়েন্ট থাকবে।
এছাড়া নগরের নাইওরপুল পয়েন্ট, মিরাবাজার সড়ক, রায়নগর এলাকা, সোবহানীঘাট পুলিশ স্টেশন এলাকা, ধোপাদীঘিরপাড় বঙ্গবীর ওসমানী শিশু উদ্যান, বন্দরবাজার জামে মসজিদ এলাকা, নয়াসড়ক পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা, কাজীটুলা এলাকা, চৌহাট্টা সড়ক, হাউজিং এস্টেট সড়ক, সুবিদবাজার, মিরের ময়দান, পুলিশ লাইনস সড়ক, রিকাবীবাজার জেলা স্টেডিয়াম, মদন মোহন কলেজ এলাকা, মির্জাজাঙ্গাল সড়ক এলাকা, পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্ট এলাকা, খুলিয়াপাড়া এলাকা, নর্থইস্ট ইউনিভার্সিটি এলাকা, তালতলা হোটেল গুলশান এলাকা, কাজীরবাজার সেতু এলাকা, কাজীরবাজার সড়ক, খোজারখলা সিলেট টেকনিক্যাল কলেজ এলাকা, ওসমানী মেডিকেল কলেজ এলাকা, বাগবাড়ী ওয়াপদা মহল্লা, পাঠানটুলা, মদিনা মার্কেট পয়েন্ট এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গেটে অ্যাকসেস পয়েন্ট থাকবে।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, এসব অ্যাকসেস পয়েন্টের একেকটিতে একসঙ্গে ৫০০ জন যুক্ত থাকতে পারবেন। প্রতিটি এক্সেস পয়েন্টে ব্যান্ডউইডথ থাকবে ১০ মেগাবিট/সেকেন্ড। চারদিকে ১০০ মিটার এলাকা এর আওতায় থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এ সুবিধা পেতে সেলফোন নম্বর দিয়ে যুক্ত হতে হবে। যুক্ত হওয়ার প্রথম ধাপে মোবাইল বা ল্যাপটপে নিজের নাম, মোবাইল নম্বর দিতে হবে। ফিরতি এসএমএসে পাসকোড আসবে। তবে ওয়েবসাইটে প্রবেশাধিকার ও ডাউনলোড থাকবে নিয়ন্ত্রিত। ব্যবহারকারীর সব তথ্য জমা থাকবে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের ডাটাবেজে।
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিনা মূল্যে ওয়াই-ফাই জোন দেখভালের জন্য বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, শাবিপ্রবির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ এবং সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। তিন মাস পরপর এ কমিটি বৈঠক করে প্রকল্পের মূল্যায়ন করবে।
ডিজিটাল সিলেট সিটি প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ মহিদুর রহমান খান বলেন, আশা করছি, চার মাসের মধ্যে সিলেট নগরবাসী ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

বণিক বার্তা

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here