ফেসবুক গুগল ইউটিউবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট

ফেসবুক গুগল ইউটিউবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট।

সোস্যাল মিডিয়া ও ভার্চুয়াল ব্যবসা অর্থাৎ ফেসবুক, গুগল, ইউটিউবসহ সমজাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ১৫ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আরোপ করেছে সরকার। এর আগে চলতি অর্থবছরের (২০১৯-২০) জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের অর্থবিলে সোস্যাল মিডিয়া ও ভার্চুয়াল ব্যবসার ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব ছিল। সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসব ব্যবসার ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট নির্ধারণ করে চলতি অর্থবছরের অর্থবিল পাস হয়েছে সংসদে। এর ফলে এসব প্রতিষ্ঠানকে নতুন ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আইন অনুযায়ী এখন থেকে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে।
এনবিআর সূত্র জানায়, গতকাল থেকে কার্যকর হওয়া নতুন ভ্যাট আইন অনুযায়ী, দেশে ব্যবসা পরিচালনা করতে চাইলে ফেসবুক, ইউটিউব ও গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানকে এনবিআর থেকে ভ্যাট নিবন্ধন নিতে হবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানগুলোর অফিস স্থাপন করতে হবে অথবা ভ্যাট এজেন্ট নিয়োগ দিতে হবে।
এছাড়া দেশে বিদেশী ব্যক্তিমালিকানাধীন রেডিও, টেলিভিশন ও ইলেকট্রনিক সেবাদাতা সব প্রতিষ্ঠান যাতে ভ্যাট এজেন্ট নিয়োগ দেয়ার মাধ্যমে ভ্যাট নিবন্ধন নেয়, সেজন্য ব্যবস্থা নিতে তথ্য সচিব ও বিটিআরসি চেয়ারম্যানকে লিখিত অনুরোধ জানিয়েছে এনবিআর। এক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক সেবাদাতা বলতে ফেসবুক, গুগল, ইউটিউব, ভাইবার, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ইত্যাদির মতো যেসব মাধ্যম বা প্রতিষ্ঠান মেসেজ, ভয়েস কল, বিজ্ঞাপন ও অনুরূপ যেকোনো সেবা দিয়ে আসছে, সেগুলোকে বোঝানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, নতুন ভ্যাট আইনে এজেন্ট নিয়োগের বিষয়ে বলা হয়েছে, কোনো অনাবাসিক ব্যক্তি বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট স্থান থেকে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা না করলে, তাকে একজন ভ্যাট এজেন্ট নিয়োগ করতে হবে। ভ্যাট এজেন্ট অনাবাসিক ব্যক্তির সব দায়দায়িত্ব ও কার্যাবলি পালন ও সম্পাদন করবেন এবং আরোপিত কর, জরিমানা, দণ্ড, সুদসহ যাবতীয় অর্থ পরিশোধের জন্য তিনি অনাবাসিক ব্যক্তির সঙ্গে যৌথ ও পৃথকভাবে দায়বদ্ধ থাকবেন।
এনবিআরের কর্মকর্তারা জানান, নতুন ভ্যাট আইন অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনোটি ভ্যাট নিবন্ধনের জন্য এজেন্ট নিয়োগ না দিলে, এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা বন্ধ করতে পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) চিঠি দেয়া হবে।
এদিকে বাজেট প্রস্তাবে অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রে (ই-কমার্স) ভ্যাটের হার সাড়ে ৭ শতাংশ করা হলেও তা পাসকৃত অর্থবিলে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। রাইডশেয়ারিংয়ের ক্ষেত্রেও ভ্যাটের হার সাড়ে ৭ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।
এদিকে প্রস্তাবিত বাজেটে ইস্পাত খাতের ওপর অতিরিক্ত ভ্যাট আরোপের অভিযোগ তুলে এর ব্যাপক প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন শিল্পোদ্যোক্তারা। তাদের ভাষ্য ছিল, উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট বাড়ানোর ফলে প্রতি টন রডের মূল্য ১২-১৪ হাজার টাকা বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য এ খাতে ভ্যাট কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন তারা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রড ও ইস্পাতের উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যায়ে ভ্যাট হার কমানো হয়েছে।
এক্ষেত্রে বাজেটে উত্থাপিত রডের কাঁচামাল স্ক্র্যাপের ওপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট বসানোর প্রস্তাবে সংশোধন আনা হয়েছে। পাসকৃত অর্থবিলে রডের ওপর ভ্যাট ধার্য করা হয়েছে টনপ্রতি ১ হাজার টাকা। এছাড়া এমএস পণ্যের ক্ষেত্রে টনপ্রতি ১ হাজার ২০০ টাকা, বিলেট বা ইনগটে ১ হাজার টাকা এবং বিলেট ও ইনগট থেকে তৈরি এমএস পণ্যে টনপ্রতি ১ হাজার টাকা ভ্যাট ধার্য করা হয়েছে।
বস্ত্র খাতের সংগঠন বিটিএমইএর দাবি আমলে নিয়ে সুতায় ৫ শতাংশ ভ্যাট তুলে দিয়ে কেজিপ্রতি চার টাকা করে ভ্যাট ধার্য করা হয়েছে। ভূমি উন্নয়নকারী সংস্থার ক্ষেত্রে ভ্যাটের হার ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে।

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here