ফকিরের ওপর এত কর কেন, প্রশ্ন টিআরএনবি সেমিনারে

মুঠোফোন সেবার ওপর কর আরোপ করা হলে তা সব শ্রেণির মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে দাবি করেছেন মুঠোফোন ব্যবহারকারী সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘সরকারের লোকজন দাবি করে দেশের ফকিরেরাও এখন মুঠোফোন ব্যবহার করে। তাহলে ফকিরের ওপর এত কর কেন আরোপ করা হচ্ছে? এটা কি প্রান্তিক মানুষকে মুঠোফোন ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার জন্য?’

নতুন বাজেটে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল মুঠোফোন সেবায় সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন। এতে একজন মানুষ ১০০ টাকা রিচার্জ করলে ২২ টাকা যাবে করের পেছনে। এ ছাড়া সিমের ওপর কর ১০০ টাকা বাড়িয়ে ২০০ টাকা করা হয়। স্মার্টফোন আমদানিতে শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়, যা আগে ১০ শতাংশ ছিল। এ ছাড়া মোবাইল অপারেটরের ন্যূনতম কর শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ শতাংশ করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এসব কর মুঠোফোন কেনা ও ব্যবহারে মানুষের ব্যয় অনেক বাড়িয়ে দেবে। মোবাইল অপারেটরগুলোও এ নিয়ে উদ্বিগ্ন।

বাজেটে টেলিযোগাযোগ খাতে প্রভাব নিয়ে এ খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক (টিআরএনবি) আজ বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইফুল ইসলাম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য মেফতাহ উদ্দিন খান, রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটবের সাবেক মহাসচিব টি আই এম নুরুল, গ্রামীণফোনের রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স বিভাগের পরিচালক হোসেন সাদাত, বাংলালিংকের কর বিভাগের প্রধান সারোয়ার হোসেনসহ খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘একদিকে আপনারা মুঠোফোন সেবাকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলছেন। অন্যদিকে চড়া হারে কর আরোপ করে তারা যাতে ব্যবহার না করতে পারে, সেই ব্যবস্থা করছেন। এটা প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে প্রতারণা।’ তিনি বলেন, মোবাইল অপারেটরগুলো আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম নয় যে তারা জনসেবা করবে। তারা সব করের চাপ মানুষের ওপর চাপাবে।

রবির মাহতাব উদ্দিন বলেন, মুঠোফোন সেবার ওপর যে হারে কর আরোপ করা হচ্ছে, তা তামাকজাত পণ্যের মতো হয়ে যাচ্ছে। এটা কি তামাকের মতো ক্ষতিকর?

বাংলালিংকের সারোয়ার হোসেন বলেন, সারা বিশ্বে আয়করের ওপর জোর দিয়ে শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাটের ওপর চাপ কমানো হচ্ছে। কারণ শুল্ক ও ভ্যাটের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর চাপ পড়ে। বাংলাদেশে আয়করের দিকে জোর দেওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে জানতে চাওয়া হয় যে সম্পূরক শুল্ক সাধারণত ক্ষতিকর পণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য আরোপ করা হয়। মুঠোফোনকে কি সরকার ক্ষতিকর হিসেবে গণ্য করছে?

এনবিআর সদস্য মেফতাহ উদ্দিন খান বলেন, বাজেট শুধু এনবিআর একা করে না। শুরুতে একটি প্রস্তাব তৈরির পর অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয়। অর্থমন্ত্রীর পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সবকিছু চূড়ান্ত হয়। তিনি বলেন, সিম কর বাড়ানোয় আসল ক্রেতাদের ওপর প্রভাব পড়বে না। ১টা দরকার হলেও এখন অনেক মানুষের কাছে ৫-৬টা সিম থাকে। তিনি বলেন, ‘স্মার্টফোনের একটা সামাজিক কুফল দেখা যাচ্ছে। আমার অফিসে দেখি সহকারীরা ফেসবুক, ইউটিউব নিয়ে পড়ে থাকে।’ তিনি প্রশ্ন করেন, এত বেশি স্মার্টফোন কি দরকার আছে? তিনি আয়কর বাড়াতে ১০ হাজার কর্মী নিয়োগ ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্যালয় খোলার পদক্ষেপের কথা জানান।

টিআইএম নুরুল কবির বলেন, একদিকে সরকার সবাইকে টেলিযোগাযোগ সেবার আওতায় আনার কথা বলছে, অন্যদিকে উচ্চহারে কর আরোপ করা হচ্ছে। সরকারে কি দুই ধরনের নীতি প্রণেতা আছে? তিনি বলেন, মুঠোফোন সেবায় সম্পূরক শুল্ক পৃথিবীর কোথাও নেই। এটা কীভাবে আরোপ করা হল, তার তদন্ত হওয়া উচিত।

 

সুত্র -রিপোর্ট: প্রথম আলো, ছবি- টিআরএনবি

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here