প্রসেসরের বাজারে ইন্টেলের আধিপত্যের দিন শেষ!

প্রসেসরের বাজারে ইন্টেলের আধিপত্যের দিন শেষ!

ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ প্রসেসরের বাজারে ইন্টেলের একাধিপত্যে সমাপ্তির ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে এএমডি! এএমডির পরবর্তী প্রজন্মের রাইজেন প্রসেসর বাজারে আসার আগেই দাম কমানোর চিন্তাভাবনা শুরু করেছে ইন্টেল। যেখানে গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে অন্তত ৪ শতাংশ বাজার হারিয়েছে এ চিপ জায়ান্ট। খবর বিজনেস ইনসাইডার।
প্রসেসর চিপের বাজারে এএমডিকে ইন্টেলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হয়। এ পর্যায়ে আসতে এএমডিকে অন্তত ১০ বছর ঘাম ঝরাতে হয়েছে। অবশেষে চিপ প্রযুক্তিতে আলাদিনের প্রদীপ হাতে পেয়েছে তারা। বিশেষ করে রাইজেন সিরিজের প্রসেসর বাজারে আনার পরই ইন্টেলের আত্মবিশ্বাসের ভিত নাড়িয়ে দিতে পেরেছে এএমডি।
প্রযুক্তি পত্রিকা ডিজিটাইম বেশ কয়েকটি মাদারবোর্ড কোম্পানির সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইন্টেল তাদের প্রধান কিছু পণ্যের দাম ১৫ শতাংশ কমানোর চিন্তা করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চিপের বাজারে এএমডির কাছে হেরে যাওয়ার আশঙ্কাতেই এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে ইন্টেল। এএমডির পরবর্তী প্রজন্মের রাইজেন প্রসেসর বাজারে আসার ঠিক আগে এমন সিদ্ধান্ত ইন্টেলের আশঙ্কার পক্ষেই প্রত্যয় জোরালো করছে। কারণ রাইজেন সিরিজের প্রসেসর এরই মধ্যে বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।
এছাড়া চলতি বছরের শুরুর দিকে এক নারী কর্মীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের জেরে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্রায়ান কিরজানিকের পদত্যাগ নিয়ে বেশ টালমাটাল অবস্থার মধ্যে পড়েছিল চিপ জায়ান্ট ইন্টেল। অর্থ বিভাগের প্রধান বব সোয়ান পরে তার স্থলাভিষিক্ত হন। এখন ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে এএমডি।
শুধু তা-ই নয়, উৎপাদন চ্যালেঞ্জ ও প্রযুক্তির কনজিউমার পণ্যের বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ করে গত এপ্রিলে স্মার্টফোন চিপ নির্মাণ ব্যবসা থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইন্টেল। পার্সোনাল কম্পিউটারের (পিসি) বাজারই কোম্পানির প্রধান ব্যবসা হলেও এখন ডাটা সেন্টারের জন্য সার্ভার চিপ নির্মাণেই গুরুত্ব দিচ্ছে এ কোম্পানি।
এ পরিস্থিতিতে প্রসেসরের দাম কমানোকে কৌশলী সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সেমিকন্ডাক্টর বাজার গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দ্য লিনলি গ্রুপের লিনলি গোয়েনাপ বিজনেস ইনসাইডারকে বলেন, নির্দিষ্ট পণ্যের দাম কমানোর কৌশল গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে ইন্টেলকে পেরে উঠতে দাম কমানো অন্যতম কৌশল হতে পারে।
তিনি আরো বলেন, আমি আশা করব ইন্টেল দাম কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করবে। কারণ কোম্পানি এখন কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে। তাদের সামনে দুটি পথ—হয় দাম কমিয়ে এএমডির সঙ্গে বাজারে থাকবে নতুবা চোখের সামনে এএমডির বাজার দখল দেখতে হবে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) হিসাবে, বর্তমানে ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ প্রসেসর সরবরাহের দিক থেকে ৮৬ শতাংশ বাজার ইন্টেলের দখলে। ২০১৮ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের হিসাব এটি। সেখানে এএমডির দখল মাত্র ১৪ শতাংশ।
আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এএমডির বাজার অংশীদারিত্ব ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। যেখানে ইন্টেলের বাজার অংশীদারিত্ব উল্টো ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।
ম্যুর ইনসাইটস অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজির গবেষক প্যাট্রিক ম্যুরহেড বলেন, এর অর্থ ইন্টেল এখন কঠিন প্রতিযোগিতার চাপে আছে। আমি এএমডির নতুন রাইজেন প্রসেসর দেখেছি, এগুলো দারুণ! বিজনেস ইনসাইডারকে তিনি আরো বলেন, গেমিং ও মাল্টিমিডিয়া ওয়ার্কস্টেশন হিসেবে এএমডির সর্বশেষ সংস্করণের রাইজেন প্রসেসর খুবই শক্তিশালী।
তাছাড়া ২০০৬ সালে গ্রাফিকস চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এটিআই কিনে নেয়ার পর গেমিং বাজারে বেশ শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে এএমডি। বাস্তবতা হচ্ছে, গেমাররা কম্পিউটারের পারফরম্যান্সের জন্য পয়সা খরচ করতে কসুর করেন না। এএমডি সে সুযোগটিই লুফে নিয়েছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান এস টু সি পার্টনারের স্টিভ অ্যালেন বলেন, এএমডি গেমারদের দৃষ্টি আকর্ষণের পাশাপাশি উচ্চতর সিলিকন প্রযুক্তিও আয়ত্ত করেছে। চিপ উৎপাদন প্রযুক্তিতে এএমডির অগ্রগতি অনেক বিশেষজ্ঞকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। প্রযুক্তিগত দিক থেকে কোম্পানিটি এরই মধ্যে ইন্টেলকে ছাড়িয়ে গেছে।
সিলিকন চিপের মান বিচার করা হয় সাধারণত চিপে ট্রানজিস্টরের ঘনত্ব বিবেচনায়। যে চিপে যত বেশি ট্রানজিস্টর, সেটিকে তত উন্নত বলা হয়। ঘনত্ব বাড়লে যেমন প্রসেসিং গতি বাড়ে, তেমনি কমে বিদ্যুৎ খরচ।
ক্ষুদ্রায়তন ও সস্তা প্রসেসরের কারণে চিপের বাজারে ঐতিহাসিকভাবে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে ইন্টেল। কিন্তু সম্প্রতি ইন্টেলের সেই সক্ষমতাকে অতিক্রম করে গেছে এএমডি। ইন্টেল যেখানে প্রসেসরের মানে ১০ ন্যানোমিটার অতিক্রম করতেই হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে, সেখানে শিগগিরই ৭ ন্যানোমিটার মানের চিপ বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে এএমডি। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকেই এমন প্রসেসর উন্মোচনের আশা করছে কোম্পানিটি।

বণিক বার্তা

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here