করের চাপ টেলিযোগাযোগ খাতের প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে

করের চাপ টেলিযোগাযোগ খাতের প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

টেলিযোগাযোগ খাতের ওপর ক্রমাগত করের চাপ খাতটির প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘বাজেট: টেলিকম খাতের বাস্তবতা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এমন মত দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) এ গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে।
আলোচনায় অংশ নেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাইফুল ইসলাম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (কর জরিপ ও পরিদর্শন) মেফতাহ উদ্দিন খান, রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, সেলফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটবের সাবেক মহাসচিব টিআইএম নুরুল কবির, মোবাইল ফোন কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ, গ্রামীণফোনের পরিচালক ও হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স হোসেন সাদাত, বাংলালিংকের হেড অব ট্যাক্স সারোয়ার হোসেন, টেলিটকের ডিজিএম সাইফুর রহমান খান প্রমুখ। টিআরএনবি সভাপতি মুজিব মাসুদের সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মাজহারুল আনোয়ার খান।
সাইফুল ইসলাম বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য টেলিটকের মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া সরকারের কিছু কাজ টেলিটক করে থাকে। সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হলেও কর-ভ্যাট দিতে হবে।
মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, সেলফোনসেবার ওপর যে হারে করারোপ করা হচ্ছে, তা তামাকজাত পণ্যের মতো হয়ে যাচ্ছে। এটা কি তামাকের মতো ক্ষতিকর? টেলিকম খাতে আয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ সরকারের খাতে চলে যায়। চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শুধু একটি মুনাফায় রয়েছে। ২১ বছর ব্যবসা করার পরও মুনাফা করার স্বপ্ন দেখতে পারি না, তখন বুঝতে হবে আসলেই পরিস্থিতি খুব খারাপ।
মেফতাহ উদ্দিন খান বলেন, বাজেট শুধু এনবিআর একা করে না। শুরুতে একটি প্রস্তাব তৈরির পর অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয়। অর্থমন্ত্রীর পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সবকিছু চূড়ান্ত হয়। সিম কর বাড়ানোয় আসল ক্রেতাদের ওপর প্রভাব পড়বে না। একটা দরকার হলেও এখন অনেক মানুষের কাছে পাঁচ-ছয়টা সিম থাকে। স্মার্টফোনের একটা সামাজিক কুফল দেখা যাচ্ছে। এত বেশি স্মার্টফোন কি দরকার আছে?
টিআইএম নুরুল কবির বলেন, একদিকে সরকার সবাইকে টেলিযোগাযোগ সেবার আওতায় আনার কথা বলছে, অন্যদিকে উচ্চহারে করারোপ করা হচ্ছে। সেলফোনসেবায় সম্পূরক শুল্ক পৃথিবীর কোথাও নেই। এটা কীভাবে আরোপ করা হলো, তার তদন্ত হওয়া উচিত।
মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, যে সেবাকে প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে সরকার ঘোষণা দিয়ে এসেছে, সেখানেই করের বোঝা চাপানো হচ্ছে। এ খাত থেকে করের বোঝা কমানোর দাবি জানান তিনি।
হোসেন সাদাত বলেন, এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আমরাই প্রথম পুঁজিবাজারে গিয়েছি। এজন্য ১০ শতাংশ কর রেয়াত দেয়া হলেও তিন বছরের মাথায় তা ৫ শতাংশ কমিয়ে দেয়া হয়। এতে অন্য কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে যেতে নিরুৎসাহিত হবে।
বাংলালিংকের হেড অব ট্যাক্স সারোয়ার হোসেন খান বলেন, সরকারের বেশকিছু লক্ষ্য রয়েছে। আর এ লক্ষ্যপূরণের জন্য টেলিকম খাতকে বেছে নেয়া হয়েছে। অথচ অন্যান্য খাতকেও টার্গেট করা যেতে পারে। সারা বিশ্বে আয়করের ওপর জোর দিয়ে শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাটের ওপর চাপ কমানো হচ্ছে। কারণ এতে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর চাপ পড়ে। এ ধরনের পরোক্ষ কর না বাড়িয়ে আয়করের দিকে বেশি নজর দেয়া উচিত।
সাইফুর রহমান খান বলেন, টেলিকম খাতে বিভিন্ন কর ও শুল্কারোপের ফলে লোকসানের পরিমাণ বেড়ে যাবে। এতে আমাদের মতো ছোট কোম্পানির জন্য টিকে থাকা কঠিন হবে।

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here