উৎপাদনে চীননির্ভরতা কমাচ্ছে অ্যাপল

উৎপাদনে চীননির্ভরতা কমাচ্ছে অ্যাপল।

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যকার বাণিজ্য বিরোধ কতদিন স্থায়ী হবে, তার নিশ্চয়তা নেই। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশকিছু চীনা পণ্যে আমদানি শুল্ক আরো ২৫ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন, যা চলতি মাসের শেষদিকে কার্যকর হতে পারে। চীনের পক্ষ থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে আমদানি শুল্ক বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। বাস্তবিক অর্থে চীন বদলা নিতে চাইলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল। কারণ যুক্তরাষ্ট্র থেকে পরিচালিত হলেও প্রতিষ্ঠানটির সিংহভাগ পণ্য তৈরি হয় চীনে। যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বাণিজ্য বিরোধের প্রভাবমুক্ত থাকতে প্রধান পণ্য সরবরাহকারীদের উৎপাদন সক্ষমতার ১৫ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ চীন থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্য কোনো দেশে স্থানান্তরের বিষয়টি পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে অ্যাপল। বিশ্বের বৃহৎ দুই অর্থনীতির বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে আইফোন বা অন্য অ্যাপল পণ্যের দামে যাতে প্রভাব না পড়ে, সে কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলও ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে গত বুধবার নিক্কেই এশিয়ান রিভিউয়ের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, অ্যাপলের এ সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র-চীনের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য বিরোধের ফল। ভবিষ্যতে বাণিজ্য বিরোধ নিরসন হলেও সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটবে না প্রতিষ্ঠানটি। অর্থাৎ ডিভাইস উৎপাদনের জন্য চীননির্ভরতা কমাতে চাইছে আইফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। কারণ এখন পর্যন্ত নিজেদের পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রায় শতভাগ চীনের ওপরই নির্ভরশীল অ্যাপল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইফোনের প্রধান সংযোজনকারী ফক্সকন, পেগাট্রন, উইস্ট্রন, প্রধান ম্যাকবুক উৎপাদনকারী কোয়ান্ট কম্পিউটার, আইপ্যাড নির্মাতা কম্পাল ইলেকট্রনিকস এবং আইপড নির্মাতা ইনভেনটেক, লাক্সশেয়ার-আইসিটি এবং গোয়েরটেকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে চীনের বাইরে পণ্য উৎপাদনের আহ্বান বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে অ্যাপল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ডিভাইস উৎপাদন কার্যক্রম চীনের বাইরে সরিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে পছন্দের তালিকায় রয়েছে মেক্সিকো, ভারত, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া। শুধু স্মার্টফোন উৎপাদনের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ভারত ও ভিয়েতনাম।
গত সপ্তাহে অ্যাপলের প্রধান পণ্য সরবরাহকারী ফক্সকনের এক জ্যেষ্ঠ নির্বাহী জানান, বাণিজ্য বিরোধের কারণে যদি এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় যে তারা চীনে উৎপাদিত আইফোন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সরবরাহ করতে পারছে না, সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক ইউনিট আইফোন চীনের বাইরে থেকে উৎপাদন ও সরবরাহ করা হবে। এ নিয়ে তাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।
ফক্সকনের সেমিকন্ডাক্টর বিজনেস গ্রুপের প্রধান ইয়ং লিয়ু বলেন, চীন থেকে আমরা সিংহভাগ পণ্য উৎপাদন করে আসছি। তবে আমাদের মোট উৎপাদন সক্ষমতার ২৫ শতাংশ চীনের বাইরে। কাজেই বিশ্বের বৃহৎ দুই অর্থনীতির মধ্যে চলমান বাণিজ্য বিরোধের জেরে যদি চীনে উৎপাদিত আইফোন যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহে জটিলতা দেখা দেয়, সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের জন্য অ্যাপলের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য আমরা চীনের বাইরে থেকে উৎপাদন ও সরবরাহ করব। কাজেই বাণিজ্য বিরোধের ফলে সৃষ্ট যেকোনো পরিস্থিতি অ্যাপলের ব্যবসায় খুব বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
তিনি বলেন, চীনের বাইরের উৎপাদন কারখানা কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের জন্য অ্যাপলের চাহিদা পূরণের যথেষ্ট সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। এজন্য আমরা শুধু অ্যাপলের নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করছি। আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।
বিশ্লেষকদের ভাষ্যে, অ্যাপল যদি চীনে উৎপাদিত আইফোন স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে চায়, তাহলে অতিরিক্ত শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে আইফোনের দাম ৯ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাবে। এমনটা হলে বৈশ্বিক বাজারে আইফোনের চাহিদা কমবে ১০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত। শুধু চাহিদার ক্ষেত্রেই নয়, নেতিবাচক প্রভাব পড়বে অ্যাপলের শেয়ারপ্রতি আয়ের ওপরও। আইফোনের দাম বাড়ানোর ফলে চাহিদা কমলে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি আয় ৬ থেকে ৭ শতাংশ কমবে।

সূত্রঃ বণিকবার্তা

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here