আউটসোর্সিংয়ে ভাগ বসাচ্ছে ক্লাউড কম্পিউটিং

আউটসোর্সিংয়ে ভাগ বসাচ্ছে ক্লাউড কম্পিউটিং।

কয়েক বছর ধরেই আউটসোর্সিং বাজারে অস্থিরতা চলছে। ২০১৪ সালে বৈশ্বিক আউটসোর্সিংয়ের রাজস্ব সর্বোচ্চ ১০৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে ওঠে। এর পর থেকেই উত্থান-পতন চলছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে এ খাতে রাজস্ব আয় হয়েছে ৮৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) হিসাবে, গুগল, অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের ক্লাউড কম্পিউটিং প্রযুক্তি আউটসোর্সিংয়ের বাজারে ভাগ বসাচ্ছে। নতুন ধরনের বিজনেস মডেল আউটসোর্সিংয়ের প্রচলিত বাজারের জন্য হুমকি হয়ে আবির্ভূত হয়েছে। খবর আইডিসি ও স্ট্যাটিস্টা।
আইডিসি ও স্ট্যাটিস্টার পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ২০১৪ সালের পর থেকেই বৈশ্বিক আউটসোর্স সেবা শিল্পের রাজস্বে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ অস্থিরতা বিজনেস প্রসেস খাতের চেয়ে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতেই বেশি। ২০১৬ সালে এ শিল্পের রাজস্ব কমে ৭৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার হয়, যা এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। এ রাজস্বের সিংহভাগ আসে মূলত আমেরিকা থেকে। এর পরই রয়েছে যথাক্রমে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা। বৈশ্বিক আউটসোর্স শিল্পের রাজস্বে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অবদান একেবারে নগণ্য।
আইডিসির আউটসোর্সিং অ্যান্ড ম্যানেজড ক্লাউড সার্ভিসেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেভিড ট্যাপার এ ব্যাপারে বলেন, নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ভোক্তা এবং সরবরাহ মডেলের দিকে আইটি আউটসোর্সিং বাজারের ধারাবাহিক রূপান্তর প্রক্রিয়া চলছে। মূলত ম্যানেজড ক্লাউড সার্ভিসের কারণেই এ পরিবর্তন আসছে। আর এতে বাজারে নতুন আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চলা অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিস, গুগল, মাইক্রোসফটের আজ্যুর এবং আলিবাবার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে আউটসোর্সিংয়ের বিদ্যমান নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলো হিমশিম খাচ্ছে।
তিনি বলেন, ক্লাউড কম্পিউটিং কোম্পানিগুলো শুধু তাদের হাইব্রিড ক্লাউড দিয়ে নতুন ব্যবসা মডেল ব্যবহারের মাধ্যমে প্রচলিত বাজারে প্রবেশ করেই ক্ষান্ত থাকছে না, বরং ম্যানেজড সার্ভিস মার্কেটে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে ম্যানেজড সার্ভিস প্রোভাইডার (এসপি) কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বড় বড় চুক্তি করছে।
ডেভিড ট্যাপার বলেন, একটি সফল ম্যানেজড ক্লাউড সার্ভিস ব্যবসা দাঁড় করাতে চাইলে ব্যবসার মডেলে মৌলিক পরিবর্তন, আস্থা, ক্লাউড সার্ভিসের একটি বিশ্বাসযোগ্য পোর্টফোলিও, ঝুঁকিহ্রাস, প্রভাবশালী অংশীজন জোগাড়, ক্লাউডে বিনিয়োগ, কার্যকর প্রশাসন এবং মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করতে ম্যানেজড সার্ভিস প্রোভাইডার খুব জরুরি।
এ ধরনের সেবাদাতাদের প্রয়োজন মূলত বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিংয়ের কাজে। ব্যয় কমাতে অথবা কর এড়িয়ে নির্দিষ্ট কাজ তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সম্পন্ন করার নামই বিজনেস প্রসেস আউটসোর্স (বিপিও)। দেখা গেছে, ২০১৮ সালে বিপিও থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব আউটসোর্সিংয়ের বৈশ্বিক রাজস্বের তুলনায় খুব কম। এ রাজস্বে প্রধান অবদান আইটি খাতের। ২০১৮ সালে দুটি খাত থেকে রাজস্ব এসেছে যথাক্রমে ২৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ও ৬২ বিলিয়ন ডলার।
২০১৭ সালে বিপিওর জন্য ভারত ছিল আকর্ষণীয় দেশ। এদেশে তুলনামূলক কম মজুরি, দক্ষতা এবং দক্ষ লোক সহজলভ্য হওয়ায় সারা বিশ্ব থেকে প্রচুর পরিমাণে বিপিওর কাজ আসত। অবশ্য ইনফরমেশন টেকনোলজি আউটসোর্সিং (আইটিও) বিপিওর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। কারণ অনেক বিজনেস প্রসেসই প্রযুক্তিভিত্তিক হয়ে থাকে।
বিপিও এবং আইটিও ছাড়াও আউটসোর্সিংয়ের অন্য ক্ষেত্রগুলো হলো বিজনেস সার্ভিস, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ শিল্প, খুচরা ব্যবসা, ভ্রমণ ও পরিবহন এবং টেলিকম ও গণমাধ্যম।
ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা ও নির্বাহীদের মতে, ২০১৬ সালে আউটসোর্স সেবার সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি ছিল ব্যয় কমানোর প্রবণতা। তবে মূল ব্যবসায় মনোযোগ এবং সক্ষমতার ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেও অনেক প্রতিষ্ঠান আউটসোর্স করে।

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here